একটি হলুদ বনে দু’টি পথ দু’দিকে গিয়েছে, এবং দুঃখিত আমি পারি না উভয় পথে যেতে একই পথচারি হয়ে। সেখানে দাঁড়িয়ে অনিমেষে বহুক্ষণ ভাবি, আর দেখি যতদূর দৃষ্টি যায়– একটি বেঁকেছে কোন বনবাদাড়ের নিচে অবশেষে।
তারপর অন্য পথে চলি, সেও বেশ অমলিন, হয়তো এটির দাবি ঢের বেশি অন্যটির চেয়ে। কেননা এ-পথ ঘাস-ঢাকা আর পদচিহ্নহীন; যদিও পায়ের ছাপে অন্যটির মতো ক্ষয়ে ক্ষয়ে একদিন সুনিশ্চয় সে-ও অবিকল যাবে হয়ে।
সেদিন সকালে জানি দু’টি পথ একই মতো, শোনো, ছিল পাতা ছাওয়া আর পড়েনি পায়ের চিহ্ন কোনো– প্রথমটি রেখে দিই অন্য কোনো দিনের আশায়, অথচ একটি পথ অন্য পথে দিব্যি মিশে যায় জেনে, তাই কোনোদিন ফিরি কি না ছিল তো সংশয়।
আজ থেকে যুগ যুগ পরে আমি হয়তো কোথাও দীর্ঘশ্বাস ফেলে শুধু বলব একথা দু’টি পথ গিয়েছে একই বনে, আর আমি–আমি চলি সেই পথে যেটি পদচিহ্নে যথেষ্ট মলিন এ-যাবৎ হয়নিকো, তাতেই ঘটেছে যা-কিছু তফাত এই।।