ওরে! সদা ব্যস্ত সূর্য, অবাধ্য তুমি! জানালা গলিয়ে, পর্দা সরিয়ে ডাকো কেন, শুনি? আমাদের প্রেম কি মেনে চলে তোমার গতি? ঠেঁটা পণ্ডিত! যাও, যেখানে আছে ঘুম কাতর অলস ছাত্র আর বিষণ্ণ শিক্ষানবিশ তাদের গিয়ে গাল পাড়ো। রাজা শিকারে যাবে— সেই বিশেষ খবর, যাও! দরবারে গিয়ে বলো; ফসল তোলার হয়েছে সময়, এই বলে কৃষককেও ডেকে তোলো। ভালোবাসা অমোঘ—চেনে না দিন বা কাল, ঋতু, মাস, বছর—সবই কেবল সময়ের জঞ্জাল।
এখনও তো তোমার আলো শক্তিতে পরিপূর্ণ, তবু কেন ভাবো এতো? এ কথা ঠিক যে, এক পলকেই করতে পারি গ্রাস তোমার অস্তিত্ব, কিন্তু অমনটা করতে গিয়ে অতোটা সময় দেখবো না প্রিয়ার মুখ, তাই কি হয়! যদি প্রিয়ার চোখ এখনো না করে থাকে তোমায় অন্ধ, তবে দেখ চোখ মেলে, আর কাল ফিরে এসে বলো আমাকে, যে মসলার রাজ্য, যে প্রাচুর্যের খনি দেখেছিলে পূবে আর পশ্চিমে, তারা কি সেখানেই আছে, নাকি মিলেছে এসে এই শয্যায় আমার বাহুডোরে? গতকাল তুমি দেখেছিলে যেসব রাজাদের নিজ নিজ দরবারে, তারা কি হয়নি লীন এই বিছানায়, এই আমি-তে?
সমস্ত-রাজ্য আমার প্রিয়া, আমি তার রাজা, অর্থহীন অন্যত্র কোথাও কিছু খোঁজা। আমাদের হয়ে কেবলই অভিনয় করে ঐসব রাজারা, আমাদের প্রেমের তুলনায় ঐ সব সম্মান, সম্পদ— নিছক ভ্রান্ত ছলনা। হে সূর্য! আমাদের তুলনায় তুমি কেবল অর্ধসুখী, যদিও তাবৎ পৃথিবীকে উষ্ণ রাখা তোমারই দায় কিন্তু তোমার বুড়ো শরীর আজ বিশ্রাম চায়, চেয়ে দেখো, পুরো পৃথিবী ছোট হয়ে আসে এই বিছানায় আমাদেরকে উষ্ণ রাখো, আর সেই উষ্ণতাই ছড়িয়ে যাক সর্বত্র, এই ঘরের চারদেয়াল হোক কক্ষপথ, এই বিছানা হোক কেন্দ্র।